নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার চিলাহাটি সীমান্তে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও আন্তর্জাতিক যাত্রী যোগাযোগের লক্ষ্য নিয়ে প্রায় ২০০ কোটি টাকা খরচে নির্মিত হয়েছিল দৃষ্টিনন্দন বহুমুখী অবকাঠামো। তবে সংযোগ চালুর চার বছরের মাথায় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে এই স্থলবন্দরটি। ফলে বিশালাকার বহুমুখী স্টেশন ভবন, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ইমিগ্রেশন ও শুল্ক ভবন, ব্যাংকিং বুথ, দোতলা ভিআইপি রেস্ট হাউস, ওভারব্রিজ এবং সীমান্ত বিস্তৃত ব্রডগেজ রেলপথ—সবই এখন অব্যবহৃত ও ধুলোবালিতে ধসে পড়া ‘অপচয়ের খাতায়’ পরিণত হয়েছে।
ব্রিটিশ আমলে চালু হওয়া ঐতিহ্যবাহী চিলাহাটি-হলদিবাড়ী রুটটি দীর্ঘ বিরতির পর ২০২১ সালে পুনরায় চালু হলেও ২০২৫ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার অবকাঠামোগত ঘাটতির যুক্তিতে প্রজ্ঞাপন দিয়ে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। ফলে সীমান্ত অবকাঠামো সম্পূর্ণ থমকে যাওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতি এবং উত্তরবঙ্গের কোটি কোটি মানুষের বাণিজ্যের সম্ভাবনা অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
চিলাহাটি বন্দর বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও শত শত দিনমজুর। নীলফামারী চেম্বার অব কমার্সের তথ্যমতে, পূর্বে চিলাহাটি রুট দিয়ে স্বল্প খরচে ভারত থেকে পাথর ও অন্যান্য কাঁচামাল আমদানি করা গেলেও, বর্তমানে পঞ্চগড় বা অন্য পথ দিয়ে ট্রাকে পণ্য পরিবহন করায় খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে।
একই সঙ্গে রেলওয়েও বড় অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে; পূর্বে মালবাহী প্রতিটি চালানে ২০ থেকে ২৬ লাখ টাকা এবং মাসে কোটি টাকার ওপর ভাড়া পেত রেল কর্তৃপক্ষ, যা এখন প্রায় শূন্যের কোঠায়।
বন্দরটি পুনরায় চালুর বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান জানান:
“স্থলবন্দরটি আপাতত চালু হচ্ছে না। এটি পুনরায় সচল করতে বাংলাদেশ ও ভারত—দুই পক্ষের সম্মতি প্রয়োজন। এ জন্য উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ লাগবে।”

