ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসন থেকে নির্বাচিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।
তার সংসদ অধিবেশনে যোগদানের ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে দায়ের করা আবেদনটি আজ কার্যতালিকা (Cause List) থেকে বাদ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
আজ বুধবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত চার বিচারপতির আপিল বিভাগীয় বেঞ্চ এ আদেশ জারি করেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও আইনি মতামত
আদালতের আদেশের পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, সম্প্রতি হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হওয়ায় আপিল বিভাগ আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ফলে বর্তমানে সরোয়ার আলমগীরের এমপি পদে বহাল থাকা এবং সংসদীয় কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার পথ সম্পূর্ণ আইনি বাঁধামুক্ত।
অন্যদিকে রিট আবেদনকারীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির জানান, হাইকোর্টের রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি (সার্টিফাইড কপি) হাতে পাওয়ার পর তারা তা চ্যালেঞ্জ করে আপিল বিভাগে ‘লিভ টু আপিল’ (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) দায়ের করবেন। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, নতুন কোনো স্থগিতাদেশ না আসা পর্যন্ত সরোয়ার আলমগীর পূর্ণাঙ্গ সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
মামলার প্রেক্ষাপট ও গেজেট প্রকাশ
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তকে গত ৯ জুলাই অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট।
হাইকোর্টের রায় প্রকাশের পরপরই নির্বাচন কমিশন চট্টগ্রাম-২ আসন থেকে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। ওই দিনই রাত ৭টা ১৫ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাকে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ বাক্য পাঠ করান।
পরবর্তীতে ওই নির্বাচন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীন হাইকোর্টের রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ এবং সরোয়ারের সংসদ অধিবেশনে যোগদানে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন।
সরোয়ার আলমগীরের আইনজীবী ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম জানান, তার মক্কেল ইতোমধ্যে একাধিক দিন ধরে জাতীয় সংসদীয় কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন।

