দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ও টিকাদান কর্মসূচির কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ভর্তি হওয়া হাম আক্রান্ত রোগীদের ওপর পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, আক্রান্ত শিশুদের ৮০ শতাংশই কোনো টিকা পায়নি। অন্যদিকে, পৃথক এক অনুসন্ধানের বরাতে জানা গেছে, হামে মারা যাওয়া শিশুদের ৫২ শতাংশেরই বয়স ছিল মাত্র ৯ মাসের কম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে হাম এবং এর প্রতিরোধক টিকা নিয়ে আরও গভীর ও ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো জরুরি হয়ে পড়েছে।
গতকাল রোববার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারে এই গবেষণার বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের উদ্যোগে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ও এর প্রতিকার নিয়ে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে গবেষণার মূল তথ্য উপাত্ত তুলে ধরেন আইসিডিডিআরবির সংক্রামক রোগ বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরিচালক এবং ভাইরোলজি ল্যাবরেটরি অ্যান্ড জেনম সেন্টারের প্রধান মোস্তাফিজুর রহমান।
গবেষকেরা জানান, ৯ মাসের কম বয়সী শিশুদের মাঝে মৃত্যুর হার অর্ধেকের বেশি (৫২ শতাংশ) হওয়াটা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। কারণ সাধারণত প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী শিশুদের ৯ মাস বয়সে হামের প্রথম ডোজ দেওয়া হয়। ফলে এই বয়সের নিচের শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং টিকাদানের আওতা বাড়াতে জাতীয় নীতিমালায় কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে কি না, তা নিয়ে আরও বিস্তারিত গবেষণার তাগিদ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
সেমিনারে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান নিজস্ব অনুসন্ধান উপস্থাপন করেন। শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে বক্তব্য দেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক আবিদ হোসেন মোল্লা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন সেমিনারে।
৪ থেকে ৬ মাসের মধ্যে টিকা দিলে ৫০ থেকে ৭৫ শতাংশ শিশুর শরীরে সুরক্ষামূলক অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, ৯ মাস বয়সে টিকা দিলে এই হার বেড়ে যায়। ৯ থেকে ১২ মাসের মধ্যে টিকা দিলে ৮৮ থেকে ৯০ শতাংশ শিশু সুরক্ষা পায়।
আরও ৪ শিশুর মৃত্যু
হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও চার শিশু মারা গেছে। সারা দেশে আরও ৯৩৮ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এ ছাড়া নতুন করে হাম শনাক্ত হয়েছে ১১৩টি শিশুর।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ৬৯৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে আরও ৯৫ শিশু। অর্থাৎ একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৭৮৮টি শিশু মারা গেছে।

