বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলের সাম্প্রতিক বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, “কিছু পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে—যদি সংসদে জুলাই চার্টার বাস্তবায়নের দাবি পূরণ না হয়, তবে এই বিষয়ের ফয়সালা রাজপথে হবে। এই ধরনের বক্তব্য ও ইস্যু মূলত সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত ও বিভ্রান্তিতে ফেলার জন্যই সামনে আনা হচ্ছে।”
তিনি উপস্থিত সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকা সব প্রধান রাজনৈতিক দলই এই চার্টারে যৌথভাবে স্বাক্ষর করেছিল। তবে কোনো ধরনের ঐকমত্য বা আলোচনা ছাড়াই সম্প্রতি কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন চার্টারে যুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান জানান এই বিএনপি নেতা।
রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে বিএনপির দীর্ঘদিনের অবস্থানের কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল সংবিধানের খোলনলচে বদলে ফেলা এবং প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, “আমাদের অবস্থান শুরু থেকেই অত্যন্ত স্পষ্ট—আমরা অতীতের স্বৈরাচারী ক্ষত নিরাময়ে সংবিধানের প্রয়োজনীয় ‘সংশোধন’ চাই। আমরা কখনোই পুরো সংবিধান ‘সংস্কার’ বা নতুন করে লেখার কথা বলিনি।”
মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন যে, কিছু রাজনৈতিক দল জুলাই চার্টারকে কেবলই “ক্ষমতায় যাওয়ার হাতিয়ার বা সিঁড়ি” হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না, বরং বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে বিএনপির দীর্ঘ ও নিরবচ্ছিন্ন আন্দোলনেরই চূড়ান্ত ফসল।

